নারীদের প্যান্ট-শার্ট পরিধান : পর্দা ও শরীয়তের মানদণ্ড

নারীদের প্যান্ট-শার্ট পরিধান : পর্দা ও শরীয়তের মানদণ্ড
সমসাময়িক সমাজে প্যান্ট-শার্ট বহুল প্রচলিত একটি পোশাক হলেও তা মুসলিম নারীদের ঐতিহ্যবাহী শালীন পোশাক হিসেবে বিবেচিত নয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে পোশাক শুধু দেহ আবৃত করার মাধ্যম নয়; বরং তা লজ্জাশীলতা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাতন্ত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
তবে কোনো নারী যদি নিজ ঘরে নির্জনে অথবা স্বামীর সামনে প্যান্ট-শার্ট পরিধান করে, তাহলে সে ক্ষেত্রে অবকাশ রয়েছে। কিন্তু মাহরাম আত্মীয় বা শিশুদের সামনেও এমন পোশাক পরিধান করা জায়েয নয়, যা শরীরের গঠন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকৃতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। কারণ এতে পর্দার মৌলিক উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ণ হয়।
অবশ্য যদি প্যান্ট-শার্ট ঢিলেঢালা হয়, মোটা কাপড়ের হয় এবং শরীরের গঠন প্রকাশ না পায়, তাহলেও নারীদের জন্য এ ধরনের পোশাককে উত্তম বা পছন্দনীয় বলা হবে না। বিশেষত যখন তা অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণের কারণ হয় কিংবা সন্তানদের ইসলামী রুচি, লজ্জাশীলতা ও পর্দাবোধের শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ইসলামী শরীয়ত নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পোশাক নির্ধারণ না করলেও কিছু মৌলিক নীতিমালা নির্ধারণ করেছে। যেমন—
১. পোশাক অবশ্যই সতর আবৃতকারী হতে হবে এবং শরীরের গঠন ও আকৃতি প্রকাশ করবে না।
২. পোশাক গায়রে মাহরাম পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণের কারণ হবে না।
৩. পোশাকে পুরুষদের সাদৃশ্য বা বিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ থাকবে না।
তাই নারীর জন্য এমন ঢিলেঢালা ও পরিপূর্ণ আবরণযুক্ত পোশাক পরিধান করা উচিত, যা পুরো শরীর ঢেকে রাখার পাশাপাশি শরীরের গঠন ও সৌন্দর্যও গোপন রাখে।
শরীয়তের দৃষ্টিতে গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর পুরো শরীর—মাথা, চেহারা, গর্দান, কব্জিসহ হাত এবং টাখনুসহ পা—আবৃত রাখা আবশ্যক। তাই পরপুরুষের সামনে শুধু শরীর নয়; শরীরের আকৃতিও গোপন রাখা জরুরি।
অন্যদিকে মাহরামদের সামনে নারী মাথা, চেহারা, গর্দান, বুকের উপরের অংশ, হাতের তালু, পা, কব্জি ও পিণ্ডলি খোলা রাখতে পারে। তবে এর বাইরে শরীরের অন্যান্য অংশ মাহরামের সামনেও আবৃত রাখা আবশ্যক। আর কোনো মাহরামের ব্যাপারেও যদি ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার সামনেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সূরা আহযাব : ৫৯; রূহুল মাআনী ১২/১২৮; জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া বানূরী টাউন, করাচী; ফাতাওয়া নং : 144203200314
দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতাওয়া বিভাগে এসেছে—
‘শরীয়তে নারীদেরকে পুরুষদের বিশেষ পোশাক ও বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্যান্ট মূলত পুরুষদের প্রচলিত পোশাক হিসেবে পরিচিত এবং অনেক ক্ষেত্রে তা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবেও বিবেচিত। ফলে এর ব্যবহার নারীর স্বাভাবিক লজ্জাশীলতা ও পর্দাবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অথচ হাদীস শরীফে ‘হায়া’ বা লজ্জাশীলতাকে ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই মুসলিম নারীর পোশাকও এই লজ্জাশীলতা ও শালীনতার নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া আবশ্যক। বাস্তবতা হলো, এ ধরনের পোশাক পরিধান অনেক ক্ষেত্রে বেপর্দা ও দেহপ্রদর্শনের দিকেই উৎসাহিত করে, যা শরীয়তের নির্দেশনার সম্পূর্ণ বিপরীত। এসব কারণেই নারীদের জন্য প্যান্ট পরিধান করা নিষিদ্ধ।’ (দারুল উলুম দেওবন্দ, ফাতাওয়া নম্বর 823)
প্রকাশিতব্য—‘সতীত্ব ও পর্দা মুসলিম নারীর অহংকার’ বই থেকে।