দুশ্চিন্তা কমাতে কুরআনের ভূমিকা

▪️দুশ্চিন্তা কমাতে কুরআনের ভূমিকা :
রাত তিনটা। সবাই ঘুমিয়ে, কিন্তু আপনি জেগে আছেন। চোখ বন্ধ করলেই মাথায় ভিড় করে আসে হাজারটা চিন্তা। কাল কী হবে, পরশু কী হবে, এই সমস্যার শেষ কোথায়। উত্তর নেই, শুধু বুকের ভেতর একটা অদৃশ্য চাপ। এই চাপ কমাতে মানুষ কত কিছুই করে। কেউ থেরাপিস্টের দরজায় যায়, কেউ ঘুমের ওষুধ খায়, কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রলিং করে। কিন্তু সকাল হলে দেখা যায়, অস্থিরতা আগের জায়গায়ই আছে।
আল্লাহ তা’আল চৌদ্দশো বছর আগেই এই সমস্যার সমাধান বলে দিয়েছেন — জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্ত হয়। (সূরা রা’দ, আয়াত : ২৮)
এটা কোনো কাব্যিক কথা না, এটা একটা অলঙ্ঘনীয় সত্য। মানুষের হৃদয় যেভাবে তৈরি হয়েছে, সেটা একমাত্র তার স্রষ্টার সংযোগেই পূর্ণ প্রশান্তি পায়।
প্রশ্ন হলো, সেই সংযোগ তৈরি হয় কীভাবে? এর উত্তর আছে ইসলামি জীবনযাপনের মধ্যে। সকালে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে ফজরের নামাজ আদায় করুন, তারপর সকালের আযকার পড়ুন। নবীজি (ﷺ) সকাল-সন্ধ্যার এই আজকারগুলো এমনভাবে শিখিয়ে গেছেন যে, এগুলো নিয়মিত পড়লে মানুষের মন একটি সুরক্ষার মধ্যে থাকে। আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস— এই আমলগুলো শুধু সওয়াবের জন্য না, এগুলো মনের ভেতরের অস্থিরতাকে দূর করার জন্যও। দিনের শুরুটা যদি আল্লাহর স্মরণে হয়, পুরো দিনটাই অন্যরকম যায়।
এরপর আসে কুরআন তিলাওয়াত। প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় কুরআন পড়ুন, অর্থ বুঝে পড়ুন। কুরআনের সাথে যার সম্পর্ক আছে, সে জানে— তিলাওয়াত শুরু করলে বুকের ভার কোথায় যেন হালকা হয়ে আসে। কারণ কুরআন শুধু পাঠের কিতাব না, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি মানুষের সাথে কথা বলা। আর যখন সৃষ্টিকর্তা নিজে কথা বলেন, তখন সৃষ্টির মন শান্ত না হয়ে পারে না।
সন্ধ্যায় মাগরিবের পর আবার সন্ধ্যার আযকার পড়ুন, কিছুটা সময় জিকিরে কাটান। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো মিলিয়ে যে ইসলামি জীবন তৈরি হয়, সেটাই মানুষকে ভেতর থেকে স্থির রাখে।
দুশ্চিন্তা তখনই মানুষকে গ্রাস করে, যখন সে ভাবে সবকিছুর ভার একা তাকেই বহন করতে হবে। কুরআন ও জিকির সেই ভুল ভাঙিয়ে দেয়, মনে করিয়ে দেয় — তুমি একা না, তোমার রব আছেন, তিনি সব দেখছেন। যে হৃদয় প্রতিদিন আল্লাহর স্মরণে সিক্ত হয়, দুশ্চিন্তা সেখানে বেশিক্ষণ টিকতে পারে না।
লেখা : সুকুনলাইফ